আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চার মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, ইশতেহার প্রণয়ন, দেশব্যাপী গণসংযোগ ও ভোট তদারকি কার্যক্রমে মনোযোগ দিচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সংঘাতমুখী কর্মসূচি নয়, বরং ইতিবাচক বার্তা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনই হবে প্রধান কৌশল।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রস্তুতি
বিএনপির চার মাসের কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত অংশ হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শিগগিরই লন্ডনে যাচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাঁর দেশে ফেরার তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপি নেতাদের মতে, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে ফিরলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রার্থী বাছাই ও ইশতেহার প্রণয়ন
তফসিল ঘোষণার আগেই অধিকাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র যাচাই, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা মূল্যায়ন এবং দলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ইশতেহার তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, এবারের ইশতেহারে জনপ্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সংস্কার ও বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পাবে।
আরো পড়ুন: কবে, কখন বাংলাদেশের এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচ
জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জামায়াতসহ কিছু দলের যৌথ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও বিএনপি সেগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, বিরোধী পক্ষের কৌশলের জবাব মাঠের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমেই দেওয়া সমীচীন হবে। বিএনপির নেতাদের দাবি, নির্বাচনি হাওয়া তৈরি হলে বিরোধীদের নানা চক্রান্ত ও দাবি জনগণের কাছে গুরুত্ব হারাবে।
নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
বিএনপির লক্ষ্য, আগামী চার মাস ধরে টানা নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। দলের নীতিনির্ধারণীরা মনে করেন, ইতিবাচক প্রচারণা ও সুসংগঠিত প্রস্তুতির মাধ্যমে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।


