রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদের পুনরুত্থান নতুনভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন যেন ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার
ফখরুলের মতে, দেশে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে সাম্প্রদায়িক উগ্রতা উসকে দিতে চাইছে। তিনি বলেন, “এটি প্রতিরোধ না করতে পারলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের যে পুরনো কৌশল, তা থেকে বের হওয়ার সময় এসেছে।”
জিল্লুর রহমান সম্প্রতি ইউটিউব ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা ব্যবহার করে গোষ্ঠীভিত্তিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, একটি দলের প্রতীকে ভোট দিলে ‘বেহেশত নিশ্চিত’, আর না দিলে ‘ঈমান নষ্ট’—এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বার্তা সহজলভ্য জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মব রাজনীতি ও রাজনৈতিক হুমকি
জিল্লুর রহমান আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব রাজনীতির পুনরুত্থান উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে তৈরি হওয়া মব এবং হত্যার হুমকি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এটিকে মৌলিক অধিকার হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও বিএনপি প্রকাশ্যে মৌলবাদবিরোধী অবস্থান নেয়, দলের ভেতরে মবের চাপ ও প্রতিক্রিয়ার নমুনা দেখা যাচ্ছে।
আরো পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলায় মব হয়েছে: মাসুদ কামাল
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে মব ভায়োলেন্স নতুন কিছু নয়। ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলন, ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব ক্ষেত্রেই ধর্মীয় উত্তেজনা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে মৌলবাদী ছাত্র রাজনীতির উত্থানও এই সমস্যাকে বাড়িয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
সমাধানের পথ
জিল্লুর রহমানের মতে, শুধু বিবৃতি দিয়ে মৌলবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন:
- শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার
- সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নিয়ন্ত্রণ
- রাজনৈতিক দলগুলোর সততা
- রাষ্ট্রীয়ভাবে মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ
তিনি বলেন, “মত প্রকাশের বিরোধিতা থাকলে আইনের পথ খোলা আছে, কিন্তু ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করানো গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকি। বাংলাদেশ এখন সংকটময় মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি ও মব মানসিকতা মিলিত হয়ে নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উত্তরণ সম্ভব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বহুত্ববাদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।”