হোলি ২০২৬: দোল পূর্ণিমায় হোলি উৎসব কবে ৩ মার্চ নাকি ৪ মার্চ- হোলির সঠিক সময়সূচি
২০২৬ সালে হোলি উৎসব কবে তা অনেকেই জানেন না। কেউ বলে হোলি উৎসব হবে ৩ই মার্চ আবার কেউ বলেন ৪ই মার্চ। দোল পূর্ণিমার হোলি উৎসব দুইদিন ধরে পালিত হয়ে থাকে। তাই কখন হোলি উৎসবের সঠিক সময়সূচি তা আজকের এই পোস্ট থেকে আপনি জানতে পারবেন।
২০২৬ সালে এই বছর দোল পূর্ণিমা পড়েছে ২-৩ই মার্চ। আর এই দোল পূর্ণিমায় হোলি উৎসব পালিত হয়ে থাকে। তবে ৩ই মার্চ হোলিকা দহন উৎসব পালিত হবে বাংলাদেশ ও ভারতে। তবে হোলি উৎসবের সময়সূচি একটু ভিন্ন রয়েছে।
দোল পূর্ণিমায় হোলি উৎসব কবে
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, দোল পূর্ণিমার হোলি উৎসব পালিত হয় চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদে। হোলি উৎসব পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ চৈত্র কৃষ্ণ প্রতিপদ তিথিতে পালিত হয়। তাই
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ: ২ মার্চ (সোমবার), বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে।
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ৩ মার্চ (মঙ্গলবার), বিকেল ৫টা ০৭ মিনিটে।
হোলিকা দহনের শুভ সময়: ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
ভদ্রা কাল: রাত ১টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত।
ভদ্রা মুখ: রাত ২টা ৩৫ মিনিট থেকে ভোর ৪টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
20+ Happy Holi images 2026 | Happy Holi wishes
উদয়তিথির অনুসারে, পূর্ণিমা তিথিতে হোলিকা দহন এবং ফাল্গুন কৃষ্ণ প্রতিপদে হোলি উদযাপনের প্রথা রয়েছে। যেখানে উদয়তিথি অনুসারে উৎসব পালিত হয়। সেখানে প্রতিপদ তিথি অনুসারে ৪ মার্চ হোলি উদযাপিত হবে।
মিথিলা অঞ্চলেও ৪ মার্চ হোলি উদযাপিত হবে। ৩ মার্চ সোমবার, উদয়তিথির কারণে দুপুর পর্যন্ত পূর্ণিমা থাকবে। তাই রঙের উৎসব হোলি উদযাপিত হবে না। তাই এবার হোলি ৪ মার্চ উদযাপিত হবে।
হোলি কখন? – দেশের কিছু অংশে ৩ মার্চ এবং কিছু অংশে ৪ মার্চ হোলি উদযাপিত হবে। এখন আপনি যেকোন ১ অনুসারে উৎসব পালন করতে পারবেন। ৩ মার্চ বেনারস এবং মথুরায় হোলি উদযাপিত হবে।
এখন আপনি যে পঞ্জিকা অনুসরণ করেন অথবা আপনার অঞ্চলের যে পঞ্জিকা অনুসরণ করে অনন্য উৎসব পালন করেন। সেই পঞ্জিকা অনুসারে যে সময় নির্ধারিত থাকবে সেই সময় আপনি হোলি উৎসব পালন করতে পারবেন।
দোল পূর্ণিমা বাংলা কত তারিখ
৩ মার্চ অথাৎ বাংলায় ২১ ফাল্গুন / ৪ মার্চ অথাৎ বাংলায় ২২ ফাল্গুন।
হোলি উৎসব সঠিক সময়সূচি
দোল পূর্ণিমার হোলি উৎসব অর্থাৎ রং খেলা ৩ই মার্চ সোমবার বিকেল পর অথবা ৪ই মার্চ মঙ্গলবার পালন করতে পারেন।
তবে ৩ই মার্চ রোজ সোমবার হোলিকা দহন উৎসবটি পালন হবে। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হোলিকা দহন করা হয় অশুভকে দহন করে শুভ করা। এই দিনটিকে ছোট হোলি উৎসব নামেও পরিচিত। এই দিনে অনেকে খর-কুটা দিয়ে অশুভ প্রতিক বানিয়ে সেটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে থাকেন হোলিকা উৎসবে।
হোলিকা দহনের উৎসব যেভাবে পালিত করবেন
হোলিকা দহনের দিন: চাল, গঙ্গাজল, রোলি-চন্দন, মৌলি, হলুদ, প্রদীপ, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে হোলিকা পূজা করার পর তাতে ময়দা, গুড়, কর্পূর, তিল, ধূপ, গুগুল, যব, ঘি, আমের কাঠ, গোবরের পিঠা বা গোবরের পিঠা দিয়ে সাতবার প্রদক্ষিণ করুন। তাতে আপনার পরিবারের সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং নেতিবাচকতা হ্রাস পায়। অসুস্থতা ও শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং ইচ্ছা পূরণ হয়। হোলিকা দহনের পর তাতে ছোলা বা গমের শীষ ভাজা বা রান্না করে প্রসাদ হিসেবে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
হোলি উৎসব পালিত হয় কি কি রং এর মাধ্যমে
হোলি উৎসবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বানীতে বলেছিলেন যে মূল ৭টি রং রয়েছে সকল রং দিয়েই উৎসব পালন করা যাবে। তিনি প্রতিটি রঙের এক একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছিলেন। তাই আপনি যেকোনো রং দিয়ে হোলি উৎসব পালন করতে পারবেন। তবে এর মধ্যে বিশেষ রং হল: লাল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি।

