Thursday, January 1, 2026
Homeএভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিজিবি মোতায়েন দলীয় নেতা কর্মীদের ঢল উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাড়তি...

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিজিবি মোতায়েন দলীয় নেতা কর্মীদের ঢল উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সকাল থেকেই ছিল অস্বাভাবিক ভিড়। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সর্বসাধারণ সবার দৃষ্টি ছিল হাসপাতালের মূল ফটকের দিকে। কারণ, এখানে চিকিৎসাধীন এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, গুঞ্জন এবং নানা রাজনৈতিক আলোচনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুপুরের দিকে সেখানে মোতায়েন করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। তাদের উপস্থিতি আশপাশের পরিবেশে নিয়ে আসে বাড়তি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা, তবে নেতা কর্মীদের ভিড় কোনোভাবেই কমেনি।
এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল এক ধরনের রাজনৈতিক মিছিলের আতরভূমিতে যেখানে প্রত্যেকেই উদ্বিগ্ন, অপেক্ষমান এবং পরিস্থিতির অগ্রগতি দেখার জন্য চোখ রেখে আছে হাসপাতালের গেটে।

হাসপাতাল এলাকায় অস্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনের সড়কে বিকেল নাগাদ পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় বিজিবি সদস্যদের। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সীমান্তবর্তী এলাকা বা বিশেষ নিরাপত্তাজনিত কারণে বিজিবি মাঠে নামে। কিন্তু রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে তাদের উপস্থিতিই বুঝিয়ে দেয় বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব কতটা বেড়েছে।

বিজিবি মোতায়েনের পর পুরো এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। গাড়ির চলাচল সীমিত করা হয়, পথচারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কড়া বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়, লাইভ বা ফেসবুক স্ট্রিমিংয়ের ওপরও ছিল কঠোর নজরদারি।

নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য বলেন জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এমন আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় নেতা কর্মীদের ঢল

বিবদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন দলীয় নেতা কর্মীরা। অনেকেই দূর জেলা উপজেলা থেকেও এসে অবস্থান নেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা, মাথায় ব্যানার, কারও কারও হাতে পোস্টার।
এই উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক সহানুভূতি নয় বরং দলটির শীর্ষ নেতার প্রতি ভালোবাসা সমর্থন এবং উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ।

আরো পড়ুন : যশোর-৩ আসনের ভোটের ইতিহাস- ক্ষমতা পালাবদল

এলাকায় থাকা কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। দোকানপাট আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। তবে নেতা কর্মীদের মুখে ছিল একটাই দাবি আমরা শুধু নেত্রীর খোঁজ নিতে এসেছি।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে স্লোগানে মুখর এলাকা

দুপুরের পরপরই এলাকা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নেতা–কর্মীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন সময়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি যাতে বিশৃঙ্খলার দিকে না যায়, সে জন্য পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

স্লোগানের শব্দ, মাইকের আওয়াজ এবং মানুষের ভিড় পুরো প্রকৃতিকে চাপা উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।
অনেকেই হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে কান পাতেন কোনো নতুন খবর আসে কি না, চিকিৎসকদের কেউ বের হন কি না দল থেকে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয় কি না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থান

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকেই সতর্ক ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের জানান, রাজনৈতিক ভিড় এবং অতিরিক্ত লোকসমাগমের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। জরুরি বিভাগের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, বাইরে স্থাপন করা হয় অতিরিক্ত সিসিটিভি মনিটরিং।

একজন কর্মকর্তা বলেন আমরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে ব্যস্ত। বাইরে যা ঘটছে তা নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়। তবে অতিরিক্ত ভিড় রোগীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও, ছবি, লাইভ আপডেট সবকিছু আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতারা বিবৃতি দেন, বিদেশি কূটনীতিকরাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে। পুরো ঘটনাটির ভেতরে যেন লুকিয়ে আছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অস্থিরতা বা পরিস্থিতির মোড় ঘোরানো মুহূর্তের ইঙ্গিত দেয়। তাই শুধু হাসপাতালের সামনে নয়, সারাদেশেই এক ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

এভারকেয়ার হাসপাতালের আশেপাশে যেসব মানুষ থাকেন, তাদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হয়। সড়ক বন্ধ, যানজট, দোকানপাট বন্ধ সব মিলিয়ে এলাকার বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন।
তবে তাদের কথায় একটা সুর রাজনৈতিক হোক বা মানবিক, দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটছে, তাই কিছুটা সহ্য করাও তাদের দায়িত্ব।

একজন দোকানদার বলেন ভিড় দেখে মনে হচ্ছে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তবে আমরা চাই শান্তি বজায় থাকুক।

বিজিবির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

বিকেলের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিজিবি সদস্যরা ব্যারিকেড আরও জোরদার করেন। নেতা কর্মীদের রাস্তার দুই পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কিছু জায়গায় পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় জনসমাগম থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কোনো বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিজিবি মোতায়েন শুধু একটি হাসপাতাল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয় বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি বড় প্রতিচ্ছবি।
নেতা কর্মীদের ভিড় উত্তেজনা উদ্বেগ সবকিছু মিলিয়ে আজকের ঘটনাটি যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলো দেশের রাজনীতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল এক পর্যায়ে অবস্থান করছে।

হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা, বাইরে কঠোর নিরাপত্তা এই দুই ভিন্ন বাস্তবতা মিলে সৃষ্টি করেছে এক জটিল ও গভীর পরিস্থিতি।
জনগণ অপেক্ষা করছে পরবর্তী খবরটির জন্য যা পাল্টে দিতে পারে পুরো পরিস্থিতির রূপরেখা।

সর্ম্পকিত পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ নিউজ