রাজধানীর কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এ হামলার ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার রাতে নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেসবুকে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল লিখেছেন, “ভিপি নুরের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে নুরসহ অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনা ন্যক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য।” তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আরো পড়ুন:
আজকের মিথুন রাশি: ৩০ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা একে সরাসরি “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ওপর হামলা” বলে আখ্যায়িত করেছেন। হান্নান মাসউদ লিখেছেন, “নুরের ওপর হামলা মানেই জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর হামলা। এর জবাব ঐক্যবদ্ধভাবেই দিতে হবে।”
ঢাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। সেখানে তারা স্লোগান দেন—“নুর ভাই ভয় নাই, আমরা আছি তোমার সাথে”, “বিচার চাই, পুলিশ লীগের বিচার চাই।”
মানববন্ধনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্যা বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। জুলাই আন্দোলনকে দমন করতেই এই বর্বরতা চালানো হয়েছে।”

ঢাবির আরেক ছাত্রনেতা জামালউদ্দিন খালিদ নুরকে “সাহসের প্রতীক” উল্লেখ করে বলেন, “তার বক্তব্য লাখো তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই এ হামলা কেবল নুরের ওপর নয়, পুরো আন্দোলনের ওপর।”
ছাত্রনেতা এ বি জুবায়ের বলেন, “আওয়ামী লীগের বি টিম হলো জাতীয় পার্টি। নুর ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে তাদের বাঁচাতেই।”
অনেক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়, জাতীয় পার্টিকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এনসিপির নেতারা দাবি করেন, ভারতের প্রত্যক্ষ মদদেই এই খেলা সাজানো হচ্ছে। তাদের ভাষায়, “নুরের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।”
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় বইছে। রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবাই এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। দাবি উঠেছে অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার।