ঢাকার রাজপথে আজ একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি সত্যিই সন্ত্রাস? এই প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমের কথায়।
শুক্রবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে তাদের তোলা হয়। শাহবাগ থানার এই মামলায় অভিযুক্তরা মঞ্চ ৭১ নামক একটি অনুষ্ঠানে জড়িত ছিলেন। একটি উত্তেজিত জনতা তাদের হেনস্তা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর অধীনে মামলা দায়ের হয়।
আদালতে হাজির হওয়ার সময় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমের চোখে-মুখে ক্ষোভ। হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা এখন সন্ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের স্বাধীনতা যারা এনে দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে থাকা কি অপরাধ? তার এই কথাগুলো শুনে অনেকের চোখ ভিজে উঠেছে।
আরো পড়ুন:
মব ও ধর্মীয় উগ্রতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: জিল্লুর রহমান
তিনি আরও বলেন, “এই হাত দিয়ে লিখি সন্ত্রাস আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সাংবাদিকরা কার পক্ষে লিখবে? মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলা কি সন্ত্রাস?” তার কণ্ঠে ব্যথা আর প্রতিবাদ মিশে ছিল। এই ঘটনা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হাফিজুর রহমান করজনও। পুলিশ জানায়, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আটক করা হয় মঞ্চ ৭১-এর অনুষ্ঠান থেকে। ডিবি প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতি এবং স্বাধীনতার ইতিহাসকে নতুন করে আলোচনায় আনল। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ব। তাদের পক্ষে দাঁড়ানো কেন সন্ত্রাস হবে? এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। সমাজের প্রত্যেককে ভাবতে হবে, সত্য বলার অধিকার কোথায় যাচ্ছে।