গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা সবাইকে চিন্তায় ফেলেছে। এই ঘটনায় জড়িত বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংবাদিকরা যখন তাদের কাজ করছেন, তখন এমন আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দলের এই পদক্ষেপ আশার আলো দেখিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বুলু এবং যুগান্তরের প্রতিনিধি এইচএম মেহেদী হাসনাত একটি সংবাদ প্রকাশের পর হামলার শিকার হন। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য এইচএম আবুল বাশার, যিনি বাচ্চু নামে পরিচিত। তিনি এবং তার সঙ্গীরা সাংবাদিকদের আহত করেন। এই ঘটনা শুনে জেলা বিএনপির নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
বুধবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল বাশার খায়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তাতে বলা হয়, বাচ্চু দলের নীতি ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন। তাই তাকে উপজেলা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যদেরও তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আরো পড়ুন: মঞ্চ ৭১-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিলেন না কেন? প্রশ্ন নিলোফার চৌধুরী মনির
শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না। এতে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। আমরা তাকে বহিষ্কার করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি।” তার এই কথা থেকে বোঝা যায়, দলের ভিতরে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কতটা জরুরি।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং যুগান্তরের প্রতিনিধি এইচএম মেহেদী হাসনাত বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এখন যেহেতু তা হয়েছে, আমাদের তিন দিনের অবস্থান কর্মসূচি এবং কলম বিরতি স্থগিত করেছি।” এতে সাংবাদিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পুলিশও নিষ্ক্রিয় নয়। কোটালীপাড়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে। এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি যে, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, কিন্তু সমাজের জন্য অপরিহার্য। কোটালীপাড়া সাংবাদিক হামলার এই ঘটনা আমাদের সবাইকে আরও সচেতন করে তুলবে।